For breaking news and live news updates, like us on Facebook or follow us on Twitter and YouTube . Read more on Latest News on Pinewz.com
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অ্যানাস্থেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। মৃত্যুর সঙ্গে টানা ২৪ দিনের লড়াই। অবশেষে হার মানল জীবন, জিতে গেল মৃত্যু। AIIMS ভোপালের ইমার্জেন্সি ও ট্রমা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রশ্মি ভার্মা সোমবার মারা যান।
পুলিস জানিয়েছে, রশ্মির বাড়ি থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। সেই নোটে তিনি লিখেছিলেন যে তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করছেন এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। পুলিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ ডিসেম্বর ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পর ডা. ভার্মা নিজেই অ্যানাস্থেশিয়ার বেশি মাত্রার ইনজেকশন নেন বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত এআইআইএমএস ভোপালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় ২৫ মিনিট সময় লেগে যায়। ততক্ষণে তাঁর হৃদযন্ত্র প্রায় সাত মিনিট ধরে কাজ করা বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:Son after Ten Daughters: ১০ মেয়ের পর কোলে এল ছেলে! ১৯ বছরের অপেক্ষার পর বাবা দাবি করলেন...
ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করেন। তিন দফা সিপিআরের পর তাঁর হার্টবিট ফিরে আসে। তবে অক্সিজেনের অভাবে তাঁর মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়ে যায়। ৭২ ঘণ্টা পরে করা এমআরআই পরীক্ষায় 'গ্লোবাল হাইপক্সিক ব্রেন ইনজুরি' ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ডা. ভার্মাকে এআইআইএমএস-এর প্রধান আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। ২৪ দিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা পুলিসকে জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে রশ্মি মানসিক চাপে ছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তবে কর্মস্থলে কোনও সমস্যার কথা তিনি কখনও কাউকে বলেননি।
ডা. রশ্মি ভার্মার স্বামী ডা. মনমোহন শাক্য একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ। ঘটনার দিন তিনি অচেতন অবস্থায় স্ত্রীকে এআইআইএমএসে নিয়ে যান। চিকিৎসার সময় কিছু মহল থেকে এআইআইএমএস ভোপালের কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. ভার্মা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ করেননি এবং তিনি দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এআইআইএমএস কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যদিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানায়, পেশাগত চাপের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ডা. ভার্মা প্রয়াগরাজের মোতিলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ থেকে থেকে এমবিবিএস, গোরখপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমডি। এলএন মেডিক্যাল কলেজ ও পিএমএস ভোপালেও কাজ করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে। অনেক সময় গরিব রোগীদের চিকিৎসার খরচ নিজে বহন করতেন। সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নোডাল অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাতের লেখা পরীক্ষার রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের ফল এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)