
সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করছিলেন।
চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করার পর জানান যে,দিল্লির প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং দূষণের জোরালো প্রভাবে তাঁর ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা (Bronchial Asthma) বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আপাতত তাঁদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চলবে কংগ্রেস নেত্রীর।
বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসা
স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসকরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী:
সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ অসুস্থতা:
দীর্ঘদিন ধরেই কাশির সমস্যায় ভুগছেন ৭৮ বছরের সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi health condition)। সেই কারণে রুটিন চেকআপের জন্য প্রায়ই তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় কাশি আরও বেড়ে যায়। দিল্লির চরম দূষণের কারণে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা আরও বেড়ে গেছে বলেই চিকিৎসকদের ধারণা। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে।
কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। দু’বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেরে ওঠার পরও দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা তাঁকে মাঝেমধ্যেই ভোগায়। গত বছর শিমলায় ছুটি কাটাতে গিয়ে একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে তড়িঘড়ি শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দু'বার কোভিড
দেখতে গেলে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ৭৮ বছরের সোনিয়া। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য মোটামুটি চিকিৎসার মধ্যেই আছেন তিনি। করাচ্ছেনও চিকিৎসা। দু'বার কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। কোভিড থেকে সেরে উঠলেও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রীকে।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ অজয় স্বরূপ জানিয়েছেন, 'তাঁর শারীরিক উন্নতির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্ভবত আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে।'
নব সত্যাগ্রহে নয়
গত বছরের ডিসেম্বরে ৭৮ বছরে পা দিয়েছেন সোনিয়া। ওই সময়েও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কর্নাটকে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের নব সত্যাগ্রহ বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। গত তিন বছর ধরে মাঝেমধ্যেই সোনিয়ার অসুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও অসুস্থতার মধ্যেই পরিষদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।
মেয়ের ডাকে
গতবছর শিমলা গিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিমলায় তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাগানবাড়ি রয়েছে। সেখানেই ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কয়েকটি মন্দিরেও যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রীর। কিন্তু এই সব পরিকল্পনার মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
এর আগে আরও ২ বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল সোনিয়াকে। এ বছর ১২ জানুয়ারি ফুসফুসের সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে এই গঙ্গারাম হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিলেন সোনিয়া। সে বার পাঁচ দিন ভর্তি থাকার পর ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। জ্বর হওয়ার কারণে ২ মার্চও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ সোনিয়া গান্ধী ৭৯ বছরে পদার্পণ করেছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
For breaking news and live news updates, like us on Facebook or follow us on Twitter and YouTube . Read more on Latest News on Pinewz.com
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অ্যানাস্থেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। মৃত্যুর সঙ্গে টানা ২৪ দিনের লড়াই। অবশেষে হার মানল জীবন, জিতে গেল মৃত্যু। AIIMS ভোপালের ইমার্জেন্সি ও ট্রমা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রশ্মি ভার্মা সোমবার মারা যান।
পুলিস জানিয়েছে, রশ্মির বাড়ি থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। সেই নোটে তিনি লিখেছিলেন যে তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করছেন এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। পুলিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ ডিসেম্বর ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পর ডা. ভার্মা নিজেই অ্যানাস্থেশিয়ার বেশি মাত্রার ইনজেকশন নেন বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত এআইআইএমএস ভোপালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় ২৫ মিনিট সময় লেগে যায়। ততক্ষণে তাঁর হৃদযন্ত্র প্রায় সাত মিনিট ধরে কাজ করা বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:Son after Ten Daughters: ১০ মেয়ের পর কোলে এল ছেলে! ১৯ বছরের অপেক্ষার পর বাবা দাবি করলেন...
ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর শুরু করেন। তিন দফা সিপিআরের পর তাঁর হার্টবিট ফিরে আসে। তবে অক্সিজেনের অভাবে তাঁর মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়ে যায়। ৭২ ঘণ্টা পরে করা এমআরআই পরীক্ষায় 'গ্লোবাল হাইপক্সিক ব্রেন ইনজুরি' ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ডা. ভার্মাকে এআইআইএমএস-এর প্রধান আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। ২৪ দিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা পুলিসকে জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে রশ্মি মানসিক চাপে ছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তবে কর্মস্থলে কোনও সমস্যার কথা তিনি কখনও কাউকে বলেননি।
ডা. রশ্মি ভার্মার স্বামী ডা. মনমোহন শাক্য একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ। ঘটনার দিন তিনি অচেতন অবস্থায় স্ত্রীকে এআইআইএমএসে নিয়ে যান। চিকিৎসার সময় কিছু মহল থেকে এআইআইএমএস ভোপালের কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. ভার্মা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ করেননি এবং তিনি দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এআইআইএমএস কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যদিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানায়, পেশাগত চাপের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ডা. ভার্মা প্রয়াগরাজের মোতিলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ থেকে থেকে এমবিবিএস, গোরখপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমডি। এলএন মেডিক্যাল কলেজ ও পিএমএস ভোপালেও কাজ করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে। অনেক সময় গরিব রোগীদের চিকিৎসার খরচ নিজে বহন করতেন। সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নোডাল অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাতের লেখা পরীক্ষার রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের ফল এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)